স্টাফ রিপোর্টার
রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের জমি বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি কর্তৃক অবৈধ ভাবে বালু ভরাট করে তিন ফসলি কৃষি জমি ও পৈতৃক ভিটা দখলের প্রতিবাদে সভা করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী তেমোড়া বালুর মাঠে ‘পৈতৃক ভিটা মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে ‘জলসিঁড়ির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল কায়েতপাড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইছাখালী তেমোড়া এসে শেষ হয়।
সভায় ইছাখালী, মাঝিনা, মাইলাব, হরিনা, পশ্চিমগাঁও, বড়ালু, পাড়াগাঁও, উল্লাবো ও ছাতিয়ানসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ভুক্তভোগী কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। চলমান এই সংকট ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে উপস্থিত এলাকাবাসী সর্বসম্মতিক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ব্যাংকার আবু বকর সিদ্দিক, নরসিংদী জেলা কোর্টের সাবেক পেশকার মো. শামসুদ্দিন মিয়া, পাট শিল্পের সাবেক সভাপতি মো. হাসেন আলী বেপারী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, দলিল লিখক গোলজার হোসেন, প্রভাষক নূর সালাম ও অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলামসহ অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১০ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে কোনো ধরনের আইনি অধিগ্রহণ বা জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষি জমি ও পৈতৃক বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়। এর প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা, মামলা ও গুলিবর্ষণের মতো নিপীড়নমূলক ঘটনা ঘটে।
আরও অভিযোগ করে বলেন , শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক খননকৃত ঐতিহাসিক ‘ইছাখালী খাল’ (স্থানীয়ভাবে জিয়া খাল) অবৈধভাবে বালু ভরাট করে ফেলায় আশপাশের অন্তত ৫টি গ্রামের মানুষ বর্তমানে চরম পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই খালটি নৌ-চলাচল, সেচ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার একমাত্র প্রধান মাধ্যম ছিল। সভায় জমি ক্রয় না করে বালু ভরাট বা রাস্তাঘাট নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ,আবাসন প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ ও মানুষের বসতবাড়ির বাইরে এ প্রকল্প স্থাপনসহ মোট ৯ টি দাবি পেশ করাহয়।
