২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে বুধবার সকালে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা পক্ষের নয়। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই; সবার দায়িত্ব নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করা।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ, দক্ষতা এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চালকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি যোগ্য চালক নিয়োগে পরিবহন মালিকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব যানবাহনে দক্ষ ও যোগ্য চালক নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।
তিনি জানান, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর ঝুঁকি নিরসনে কাজ চলছে। মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনা কমাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
আইন প্রয়োগের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বেপরোয়া চালনা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অনিরাপদ যানবাহন পরিহার এবং সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম এমপি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি। এ ছাড়া বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
