আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা: জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন হাসিনা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তিনজন বিশেষজ্ঞের কাছে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগপত্র জমা দিয়েছেন ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি (কিংস কাউন্সেল)। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং দলটিকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারদের কাছে একটি লিখিত যোগাযোগ পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনা। ম্যাট্রিক্স চেম্বার্সে প্রকাশিত ওই যোগাযোগে তিনি দাবি করেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সীমিত করছে।

যোগাযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় আওয়ামী লীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বহাল রাখা হয়েছে এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারও সেটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তবে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো যোগাযোগে দাবি করা হয়েছে, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত ভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক বলা যায় না। দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত করার উদ্যোগ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি করছে।

এতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার অর্থ হলো, ওই দলের সমর্থকদের একটি বড় অংশকে নিজেদের পছন্দের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।

বাংলাদেশের আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যোগাযোগে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের ওপর চলমান হামলা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দলটির পক্ষে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চারটি অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ

শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো যোগাযোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চারটি অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো- 

অনুচ্ছেদ ১৯: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ ২১: শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার।

অনুচ্ছেদ ২২: সংগঠন করার স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ ২৫: রাজনৈতিক অধিকার।

যোগাযোগে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এসব অধিকারের ওপর বৈধ বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে না। নিষেধাজ্ঞাটি এমন একটি প্রশাসনের সময় আরোপ করা হয়েছিল, যার পরবর্তী সরকার এমন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি- এ বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার পেছনে বৈধ উদ্দেশ্যের অভাব, বিধিনিষেধের অসামঞ্জস্য এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থার অনুপস্থিতির অভিযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান হামলার সঙ্গেও এ নিষেধাজ্ঞার সম্পর্ক রয়েছে বলে যোগাযোগে দাবি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের তিন মানবাধিকার ম্যান্ডেটধারীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারা হলেন-

১. সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারের বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার।
২. শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার।
৩. গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে