সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে বুধবার তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

এ নিয়ে মামলাটিতে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলার আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি। বুধবার ১২ জনের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এদিন বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, দুদকের কর্মী, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সাক্ষ্য দেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন কমিউনিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এফএভিপি মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান, প্রাইম টাওয়ারের এসইভিপি ও হেড অব আইসিসিডি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তা উদয় সংকর চাকী এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফয়সাল ভূঞা পিয়াস।

এ ছাড়া দুদকের অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সাল কবির, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম ও উপপ্রকৌশলী নাহিদ হাসান লিজন সাক্ষ্য দেন।

অন্য সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান তুষার এবং স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) ডিআইজি শোয়েব রিয়াজ আলম।

১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সংস্থাটির উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং পাঁচ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন।

তবে তদন্তে তার নামে সাত কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর ও আট কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বৈধ আয়ের উৎস থেকে বেনজীরের আয় ছয় কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় চার কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এর বিপরীতে তার নামে ১১ কোটি চার লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করে ব্যাংক হিসাব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

২০২৬ সালের ৮ মার্চ আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর থেকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আগামী ৫ নভেম্বর বাকি দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।