আবারও একসঙ্গে আবুল হায়াত-ডলি জহুর

বাংলা নাটকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সাবলীল অভিনয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। পর্দায় তাদের উপস্থিতিই দর্শকের মনে তৈরি করে আলাদা প্রত্যাশা। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, সংলাপ প্রকাশের স্বতন্ত্র ভঙ্গি আর চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার দক্ষতায় আবুল হায়াত ও ডলি জহুর তেমনই দুই অভিনয়শিল্পী।

দীর্ঘদিন ধরে তারা মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজেদের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। পর্দায় তাদের একসঙ্গে দেখার সুযোগ এলে দর্শকের আগ্রহও বেড়ে যায়। সেই আগ্রহে নতুন মাত্রা যোগ করতে আবারও তাদের নিয়ে নাটক নির্মাণ করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। নাটকের নাম ‘আহারে জীবন’।

কিছুদিন আগেই প্রচারে এসেছে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত আবুল হায়াত ও ডলি জহুর অভিনীত নাটক ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। নাটকটিতে দুই বরেণ্য শিল্পীর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার একই নির্মাতার নতুন নাটক ‘আহারে জীবন’-এ আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে তাদের। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। এতে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। এরই মধ্যে নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই এটি প্রচারিত হবে ‘রঙ্গন’ চ্যানেলে।

চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় আবুল হায়াত ও ডলি জহুর বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। নির্মাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার পরিচালনায় আবুল হায়াত প্রায় আড়াই শ এবং ডলি জহুর দুই শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। দুই শিল্পীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই কাজের সম্পর্ককে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করেন চয়নিকা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার পরিচালনায় এই দুই কিংবদন্তি শিল্পী শত শত নাটকে অভিনয় করেছেন, এটা যে আমার কত বড় এবং পরম সৌভাগ্য, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমি দুজন শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতা আমাকে সব সময়ই আপ্লুত করে।’

নাটকটিতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবুল হায়াত বলেন, চয়নিকা চৌধুরী একজন অভিজ্ঞ পরিচালক। তার সঙ্গে কাজ করতে তিনি ভীষণ উপভোগ করেন। ডলি জহুরের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াও বেশ ভালো। তার মতে, অভিনয়ের সময় সহশিল্পী কীভাবে সংলাপ ও অভিনয়ের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ‘আহারে জীবন’-এর গল্পও তার ভালো লেগেছে। নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডলি জহুর বলেন, আবুল হায়াতের সঙ্গে অভিনয় করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় দুজনের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। চয়নিকা চৌধুরীকেও নিজেদের মানুষ মনে করেন তিনি। এই নির্মাতার নাটকে অভিনয় করতে তার সব সময়ই আলাদা ভালো লাগা কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের অভিনয়জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য চয়নিকার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান ডলি জহুর।

উল্লেখ্য, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর অভিনীত সর্বশেষ প্রচারিত নাটক ‘দাদী ভয়ংকর’। ‘আহারে জীবন’ প্রচারে এলে আবারও এই দুই অভিজ্ঞ শিল্পীর অভিনয় একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন দর্শক।